বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহানবী সাঃ এর বিদায় হজের ভাষণে প্রধান উক্তি কয়টি

মহানবী (সাঃ) এর বিদায় হজের ভাষণ

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:১৯ অপরাহ্ন, ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫
মহানবী (সাঃ) এর বিদায় হজের ভাষণ
মহানবী (সাঃ) এর বিদায় হজের ভাষণ

মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ–এর বিদায় হজের ভাষণ
আরাফাতের ময়দানে প্রদত্ত এই ভাষণ শুধু মুসলমানদের নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও চিরন্তন মানবাধিকার ঘোষণা।
এসো, এই মহামূল্যবান বাণীগুলো হৃদয়ে ধারণ করি।

আরাফাতের প্রান্তর। ১০ হিজরি। লক্ষ লক্ষ সাহাবি সমবেত হয়েছেন। রৌদ্রতপ্ত মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে মানবতার মুক্তির শিক্ষায় ভরে উঠলো নবীজির কণ্ঠ।

নবী ﷺ বললেন-

“হে মানুষ!”
তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় করো। আজকের এই দিন, এই মাস, আর এই শহর যেমন পবিত্র—তেমনি তোমাদের জীবন, সম্পদ ও সম্মান একে অপরের কাছে পবিত্র।
তোমরা কারো হক নষ্ট করবে না, কারো ওপর জুলুম করবে না।

নবী ﷺ জানিয়ে দিলেন-
মানুষের রক্ত, সম্পদ, ইজ্জত—সবই নিরাপদ।
কেউ কারো ক্ষতি করার অধিকার রাখে না।

এরপর তিনি জাহিলিয়াত যুগের সমস্ত রক্তপাতে প্রতিশোধ নেওয়ার নিয়ম ও সুদ প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করলেন। এবং উদাহরণ হিসেবে প্রথমেই নিজের পরিবারের সুদ বাতিল করলেন।

পরবর্তী অংশে নবী ﷺ নারীদের অধিকার সম্পর্কে অসাধারণ বাণী দিলেন-
“হে মানুষ! নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তারা তোমাদের সঙ্গিনী, তোমাদের অমানত। তোমাদের তাদের ওপর অধিকার আছে, আবার তাদেরও তোমাদের ওপর অধিকার আছে।”

এভাবে তিনি পরিবার, সমাজ ও বিবাহিত জীবনের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার পথ দেখালেন।

তারপর নবী ﷺ বললেন-
“আমি তোমাদের কাছে এমন একটি অমূল্য জিনিস রেখে যাচ্ছি, তা যদি আঁকড়ে ধরো—তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব—কুরআন।”

এরপর তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন মানবজাতির সর্বোচ্চ বার্তা—সমতা ও ভ্রাতৃত্ব:
“মনে রেখো, সব মানুষই আদমের সন্তান। আর আদম সৃষ্টি হয়েছেন মাটি থেকে। কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই—শুধু তাকওয়া ছাড়া।”

তিনি জানিয়ে দিলেন-
মুসলমান মুসলমানের ভাই। কেউ কারো ওপর জুলুম করবে না। সমাজে দয়া, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচারই হবে জীবনের মূলনীতি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবাণী ছিল-
শয়তান বড় বিষয়ে তোমাদের বিপথে নিতে পারবে না, তবে ছোট ছোট কাজে সে প্রবেশের চেষ্টা করবে। তাই সে বিষয়ে থেকো সাবধান।

সর্বশেষে নবী ﷺ বললেন-
“হে মানুষ! আমি কি আল্লাহর বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিলাম?”
সমবেত সাহাবারা একসাথে বললেন-
“জি হ্যাঁ, আপনি পৌঁছে দিয়েছেন।”

তখন নবী ﷺ আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন-
“হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো।”

এই ভাষণ দিয়েই সম্পূর্ণতা পেল মানবতার সবচেয়ে সুন্দর, ন্যায়নিষ্ঠ ও পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা—ইসলাম।

শেয়ার করুন: